একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬: আগের মতোই এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী নির্বাচন

অনলাইনে মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি কার্যক্রম চালাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

0 57

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬ কার্যক্রমে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা থাকছে না। পূর্বের নিয়ম অনুসরণ করে এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে মেধা এবং পছন্দক্রম বিবেচনা করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের দুজন কর্মকর্তা দৈনিক প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভর্তি পরীক্ষার আলোচনা নাকচ ও শিক্ষাবোর্ডের চূড়ান্ত অবস্থান

সরকার পরিবর্তনের পর শিক্ষা ব্যবস্থার নানা স্তরে পরিবর্তন আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এই প্রেক্ষাপটে একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে বলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা চালু করলে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। নতুন এই পদ্ধতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, ফলাফল প্রকাশের দু-এক দিন আগেই ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে। আপাতত তিনি বেশি কিছু জানাতে রাজি হননি।

অনলাইন আবেদন পদ্ধতি, বুয়েটের সহায়তা এবং ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান

বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। একজন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিতে পারবে। এরপর শিক্ষার্থীর ফলাফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসার জন্য এই কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যতীত দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই এই একই পদ্ধতিতে ভর্তি চলে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি সম্পূর্ণ পৃথক একটি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং ভর্তি সময়সূচির নতুন কর্মপরিকল্পনা

চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল ২০ জুলাই। শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় সেই তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১০ আগস্ট এই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

ফলাফল পিছিয়ে যাওয়ায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরুর সময়সূচিও পেছাচ্ছে। বোর্ডের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ফল প্রকাশের ১০ দিন পর অর্থাৎ ৩০ জুলাই থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে। এখন সরকারি ছুটি এবং অন্যান্য বিষয়গুলো সমন্বয় করে নতুন একটি সময়সূচি নির্ধারণের কাজ চলছে।

কোটা সংস্কারের প্রভাব এবং বিপুল সংখ্যক আসন ফাঁকা থাকার শঙ্কা

অনলাইন ভর্তি পদ্ধতিতে বিভিন্ন কোটা প্রয়োগ নিয়ে বর্তমানে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা চলমান রয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, কোটা-সংক্রান্ত চূড়ান্ত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেই গ্রহণ করা হবে।

দেশজুড়ে কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে মোট ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের সামান্য বেশি। পরীক্ষার প্রথম দিনেই ১১টি বোর্ডে ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও এই অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

ফরম পূরণ করলেও তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ফলস্বরূপ, পাস করা শিক্ষার্থীর চেয়ে আসন সংখ্যা ঢের বেশি হওয়ায় এবারও বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে। মূলত এসএসসির চূড়ান্ত পাসের হারের ওপরই নির্ভর করবে ঠিক কতগুলো আসন শূন্য থেকে যাবে।

আরও পড়ুনকিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৬৮ পদে চাকরির সুযোগ: উচ্চমাধ্যমিক পাশেই আবেদনের সুযোগ

Source প্রথম আলো

Leave A Reply

Your email address will not be published.