জটিল গবেষণার জন্য শক্তিশালী এআই মডেল ‘Astra’ আনছে ওপেনএআই
গণিত ও কম্পিউটারবিজ্ঞানের জটিল সমস্যা সমাধানে সক্ষম নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল নিয়ে কাজ করছে ওপেনএআই।
জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার কাজ সহজে সম্পন্ন করার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৈরি করেছে ওপেনএআই। নতুন এই OpenAI New AI Model Astra মডেলটির প্রাথমিক নাম রাখা হয়েছে ‘অ্যাস্ট্রা’। এরই মধ্যে গণিত ও তাত্ত্বিক কম্পিউটারবিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ১০টি সমস্যা সমাধানে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে এই Advanced AI Model। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধে অ্যাস্ট্রাকে নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মের বড় উদ্ভাবন হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গণিত থেকে ক্রিপ্টোগ্রাফি: কোথায় সফল হলো অ্যাস্ট্রা
ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, নতুন মডেলটি এমনভাবে গড়া হয়েছে যাতে দীর্ঘ সময় ধরে চলা জটিল গবেষণাধর্মী কাজ ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা যায়। বিষয়টি সহজ কোনো ব্যাপার নয়। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় মডেলটি একাধিক কঠিন ক্ষেত্রে সমাধান দিতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
গণিত, কোডিং তত্ত্ব ও সার্কিটের জটিলতা—এই তিনটি ক্ষেত্রেই ভালো ফল দেখিয়েছে অ্যাস্ট্রা। এর পাশাপাশি গ্রুপ তত্ত্ব, কোয়ান্টাম জটিলতা, ল্যাটিসভিত্তিক ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং এক্সট্রিমাল কম্বিনেটরির মতো অত্যন্ত জটিল বিষয়েও অগ্রগতি এসেছে। এসব ক্ষেত্র সাধারণত উচ্চতর গাণিতিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়, যেখানে মানুষের বিশেষজ্ঞদেরও সমাধান বের করতে বছরের পর বছর সময় লাগে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মডেলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি বড় ও জটিল সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করতে পারে। এরপর একাধিক এআই এজেন্টের মাধ্যমে একই সময়ে সেসব অংশ বিশ্লেষণ ও সমাধান করা হয়। এই পদ্ধতি প্রচলিত একক-মডেল কাঠামোর চেয়ে ভিন্ন এবং কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।
মডেলটির নাম চূড়ান্তভাবে অ্যাস্ট্রা রাখা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ওপেনএআই। ভবিষ্যতে এটি জিপিটি ৫.৭, জিপিটি ৬ বা সম্পূর্ণ নতুন নামেও উন্মুক্ত হতে পারে। বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
কেন এমন মডেল তৈরির উদ্যোগ, প্রেক্ষাপট কী
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে জটিল গবেষণাধর্মী কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন গণিত ও তত্ত্বীয় বিজ্ঞানের সমস্যা সমাধানে এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ওপেনএআইয়ের এই উদ্যোগকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বব্যাপী এআই খাতে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব মডেলের সক্ষমতা বাড়িয়ে বাজারে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছে। এই ধারাবাহিকতায় অ্যাস্ট্রার আত্মপ্রকাশ প্রযুক্তি খাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সাধারণ ও প্রিমিয়াম সংস্করণের সম্ভাবনা
ধারণা করা হচ্ছে, ওপেনএআই ভবিষ্যতে অ্যানথ্রপিকের আদলে অ্যাস্ট্রার একাধিক সংস্করণ উন্মুক্ত করতে পারে। এমন কৌশল বর্তমানে বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অনুসরণ করছে।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি মৌলিক সংস্করণ উন্মুক্ত করা হলেও অর্থের বিনিময়ে অধিক শক্তিশালী সংস্করণগুলো ব্যবহারের সুযোগ মিলতে পারে বলে জানা গেছে।
এই মডেল বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত হলে তা প্রযুক্তি খাতে কর্মরত পেশাজীবী ও গবেষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা জটিল গাণিতিক মডেলিং বা কোডিং-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত, তাঁদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি, প্রযুক্তি খাতের এই অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রেও নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তবে চূড়ান্তভাবে কবে নাগাদ এবং কোন নামে মডেলটি বাজারে আসবে, সে বিষয়ে ওপেনএআই এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক আপডেট পেতে নজর রাখতে হবে আসন্ন দিনগুলোতে।
(সূত্র: ব্লিপিং কম্পিউটার, দ্য ইনফরমেশন)